بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
হা-মীম।
শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের।
আমি তো ইহা অবতীর্ণ করিয়াছি এক মুবারক রজনীতে ; আমি তো সতর্ককারী।
এই রজনীতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়,
আমার আদেশক্রমে, আমি তো রাসূল প্রেরণ করিয়া থাকি
তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহস্বরূপ ; তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ-
যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও উহাদের মধ্যবর্তী সমস্তকিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।
তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই, তিনি জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান; তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও প্রতিপালক।
বস্তুত উহারা সন্দেহের বশবর্তী হইয়া হাসিঠাট্টা করিতেছে।
অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেই দিনের যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হইবে আকাশ,
এবং উহা আবৃত করিয়া ফেলিবে মানব জাতিকে। ইহা হইবে মর্মন্তুদ শাস্তি।
তখন উহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক ! আমাদের হইতে শাস্তি দূর কর, অবশ্যই আমরা ঈমান আনিব।
উহারা কী করিয়া উপদেশ গ্রহণ করিবে ? উহাদের নিকট তো আসিয়াছে স্পষ্ট ব্যাখ্যাতা এক রাসূল ;
অতঃপর উহারা তাহাকে অমান্য করিয়া বলে, ‘সে শিক্ষাপ্রাপ্ত এক পাগল!
আমি কিছু কালের জন্য শাস্তি রহিত করিব-তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়া যাইবে।
যেদিন আমি তোমাদেরকে প্রবলভাবে পাকড়াও করিব, সেদিন নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে শাস্তি দিবই।
ইহাদের পূর্বে আমি তো ফির‘আওন সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করিয়াছিলাম এবং উহাদের নিকটও আসিয়াছিল এক সম্মানিত রাসূল,
সে বলিল, ‘আল্লাহ্র বান্দাদেরকে আমার নিকট প্রত্যর্পণ কর। আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
‘এবং তোমরা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিও না, আমি তোমাদের নিকট উপস্থিত করিতেছি স্পষ্ট প্রমাণ।
‘তোমরা যাহাতে আমাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করিতে না পার, তজ্জন্য আমি আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালকের শরণ লইতেছি।
‘যদি তোমরা আমার কথায় বিশ্বাস স্থাপন না কর, তবে তোমরা আমার নিকট হইতে দূরে থাক।
অতঃপর মূসা তাহার প্রতিপালকের নিকট নিবেদন করিল, ‘ইহারা তো এক অপরাধী সম্প্রদায়।
আমি বলিয়াছিলাম, ‘তুমি আমার বান্দাদেরকে লইয়া রজনীযোগে বাহির হইয়া পড়, তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হইবেই।
সমুদ্রকে স্থির থাকিতে দাও, উহারা এমন এক বাহিনী যাহা নিমজ্জিত হইবেই।
উহারা পশ্চাতে রাখিয়া গিয়াছিল কত উদ্যান ও প্রস্রবণ;
কত শস্যক্ষেত্র ও সুরম্য প্রাসাদ,
কত বিলাস-উপকরণ, উহাতে তাহারা আনন্দ পাইত!
এইরূপই ঘটিয়াছিল এবং আমি এই সমুদয়ের উত্তরাধিকারী করিয়াছিলাম ভিন্ন সম্প্রদায়কে।
আকাশ এবং পৃথিবী কেহই উহাদের জন্যে অশ্রুপাত করে নাই এবং উহাদেরকে অবকাশও দেওয়া হয় নাই।
আমি তো উদ্ধার করিয়াছিলাম বনী ইসরাঈলকে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি হইতে
ফির‘আওনের; সে তো ছিল পরাক্রান্ত সীমালংঘনকারীদের মধ্যে।
আমি তো জানিয়া-শুনিয়াই উহাদেরকে বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছিলাম,
এবং উহাদেরকে দিয়াছিলাম নিদর্শনাবলী, যাহাতে ছিল সুস্পষ্ট পরীক্ষা;
উহারা বলিয়াই থাকে,
‘আমাদের প্রথম মৃত্যু ব্যতীত আর কিছুই নাই এবং আমরা আর উত্থিত হইব না।
‘অতএব তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে উপস্থিত কর।
শ্রেষ্ঠ কি উহারা, না তুব্বা সম্প্রদায় ও ইহাদের পূর্ববর্তীরা ? আমি উহাদেরকে ধ্বংস করিয়াছিলাম, অবশ্যই উহারা ছিল অপরাধী।
আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের মধ্যে কোন কিছুই ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করি নাই;
আমি এই দুইটি অযথা সৃষ্টি করি নাই, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই ইহা জানে না।
নিশ্চয়ই সকলের জন্য নির্ধারিত রহিয়াছে উহাদের বিচার দিবস।
সেদিন এক বন্ধু অপর বন্ধুর কোন কাজে আসিবে না এবং উহারা সাহায্যও পাইবে না।
তবে আল্লাহ্ যাহার প্রতি দয়া করেন তাহার কথা স্বতন্ত্র। তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ হইবে-
পাপীর খাদ্য;
গলিত তাম্রের মত, উহাদের উদরে ফুটিতে থাকিবে
ফুটন্ত পানির মত।
উহাকে ধর এবং টানিয়া লইয়া যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে,
অতঃপর উহার মস্তকের উপর ফুটন্ত পানি ঢালিয়া শাস্তি দাও-
এবং বলা হইবে ‘আস্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো ছিলে সম্মানিত, অভিজাত!
‘ইহা তো উহাই, যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ করিতে।
মুত্তাকীরা তো থাকিবে নিরাপদ স্থানে-
উদ্যান ও ঝর্ণার মাঝে,
তাহারা পরিধান করিবে মিহি ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং মুখোমুখি হইয়া বসিবে।
এইরূপই ঘটিবে; আমি উহাদেরকে সঙ্গিনী দান করিব আয়তলোচনা হুর,
সেথায় তাহারা প্রশান্ত চিত্তে বিবিধ ফলমূল আনিতে বলিবে।
প্রথম মৃত্যুর পর তাহারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করিবে না। আর তাহাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হইতে রক্ষা করিবেন-
তোমার প্রতিপালক নিজ অনুগ্রহে। ইহাই তো মহাসাফল্য।
আমি তো তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করিয়া দিয়াছি, যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে।
সুতরাং তুমি প্রতীক্ষা কর, উহারাও প্রতীক্ষমাণ।

0 মন্তব্যসমূহ
Ok
Thanks.